৭২ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছানোর ঘোষণা ইভ্যালির

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:০৮  

অগ্রিম মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইভ্যালি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিগ ব্যাং’ অফারের মাধ্যমে আবার ফিরে আসছে দেশের অন্যতম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। কারাগার থেকে মুক্তির পর আবারও কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ রাসেল। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন অফার ‘বিগ ব্যাং’ ঘোষণা করেন তিনি।

২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। চেক জালিয়াতি, টাকা দিয়ে পণ্য না পাওয়াসহ নানা অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে সারাদেশে অনেকগুলো মামলা হয়। ফলে গ্রাহক ও মার্চেন্ট পর্যায়ে আটকে যায় শত শত কোটি টাকা।

পাওনা টাকা কীভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল শুক্রবার  রাতে ফেসবুক লাইভে আসবেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহাম্মাদ রাসেল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইভ্যালির ‘বিগ ব্যাং’ অফারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে স্যামসাং, মিনিস্টার, যমুনা, ইউনিলিভার, টিকে গ্রুপ, সেনা, তীর, নোকিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান। গ্রাহক যেকোনো পণ্য অর্ডার দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেয়ে যাবেন। এখানে সকল পণ্য মিলবে সিওডি অর্থাৎ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে। গ্রাহক আগে পণ্য বুঝে পাবেন, এরপর টাকা পেমেন্ট দেবেন।

নতুন ক্যাম্পেইন সম্পর্কে মোহাম্মাদ রাসেল বলেন, ‘গ্রাহকদের সেরা অফার দেওয়ার জন্য আমাদের সরবরাহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েক’শ সেলার তাঁদের অফারের কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময়ের এই দূরত্ব কেবল ইভ্যালির ‘বিগ ব্যাং’ অফারের মাধ্যমে ঘোচানো যাবে।’

প্রসঙ্গত, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শর্ত সাপেক্ষে গত ৬ এপ্রিল শামীমা নাসরিন জামিনে মুক্ত হন। এরপর বিভিন্ন গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকার মধ্য থেকে ইভ্যালির ২ হাজার ৮৮২ জন গ্রাহককে মোট ১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, বিভিন্ন গেটওয়েতে ইভ্যালির গ্রাহকদের ২৫ কোটি টাকার মতো আটকে ছিল। নগদ-এর কাছে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বিকাশের কাছে ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা, এবং এসএসএল কমার্সের কাছে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আটকে ছিল। এর মধ্যে নগদ হতে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা, বিকাশ থেকে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং এসএসএল থেকে ২১ লাখ টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।